শনিবার, ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ৩১শে শ্রাবণ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • তেলের নতুন দাম আজ: এপ্রিলে সংকটের ভয় নেই, ডিজেলের বড় মজুদের সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
  • গুম হওয়া ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা
  • তেলের বাজারে অস্থিরতা: সাশ্রয় করতে 'হোম অফিস' ও স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবছে সরকার
  • সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগের পরই সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি রেজাউল হাসান
  • ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আর নয়, নতুন পে স্কেলের দাবিতে উত্তাল হচ্ছে সরকারি কর্মচারীরা
  • এবার বেতন পাবেন খেলোয়াড়রা: ১২৯ ক্রীড়াবিদকে কার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী, লক্ষ্য ৫০০ জনের কর্মসংস্থান
  • এক নজরে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক
  • তেলের দাম বাড়বে না, তবে পাচার করলেই কঠোর ব্যবস্থা
  • সংসদ অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার: জুলাই সনদের ভিত্তিতেই এ সংসদ, গণভোটের রায় অমান্য করা যাবে না
  • ফুরিয়ে আসছে পেট্রোল, বাড়ছে অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞের ভয়াবহ পূর্বাভাস

শব্দ শুনেই মোটরসাইকেলের ত্রুটি মেরামত করেন দৃষ্টিশক্তিহীন হোসেন আলী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২৬ জুন ২০২৫, ১৫:৩১

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মোটরসাইকেল মেকানিক হোসেন আলী। প্রায় দশ বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চোখে সমস্যা দেখা দেয় তার। উন্নত চিকিৎসার অভাবে তার দুই চোখের আলো নিভে যায়। অন্ধত্ব বরণ করে নিতে হয় তাকে। তবে ৫০ বছর বয়সেও এই অন্ধত্ব মেকানিক হোসেন আলীকে দমাতে পারেনি।

অন্ধ হয়েও কর্মহীন হয়ে পড়েননি তিনি। মোটরসাইকেলের শব্দ শুনেই ত্রুটি ধরতে পারেন। শব্দ শুনেই সমস্যা বুঝে মেরামত করে ফেলেন মোটরসাইকেল।

তার দক্ষ মেকানিকের কাজ দেখে বোঝার উপায় নেই তিনি পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তিহীন। এমনকি টাকা হাতে নিয়েই বুঝে ফেলতে পারেন কোনটা কত টাকার নোট। স্বল্প খরচে ভালো কাজ করেন বলেই মেকানিক হিসেবে এলাকায় সুনাম রয়েছে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরশহরের কে এম লতিফ সুপার মার্কেটে ছোট একটি ভাড়া দোকানে মেকানিকের কাজ করেন অন্ধ হোসেন আলী।

তিনি জানান, ৯ বছর বয়সে ভাইয়ের দোকানে মোটরসাইকেল ও জেনারেটরের যন্ত্রাংশ মেরামতের হাতেখড়ি হোসেন আলী। এরপর ধীরে ধীরে মেকানিকের কাজ রপ্ত করে ফেলেন তিনি। তখন থেকেই যন্ত্র চলার শব্দ শুনেই সমস্যাগুলো ধরে ফেলতেন এবং সেগুলো মেরামতে কাজ করতেন। দশ বছর আগে তার ব্রেন স্ট্রোক হয়ে যায় দুর্ভাগা হোসেন আলীর। পরে দুই চোখে সমস্যা দেখা দেয়।

অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা মেলেনি। ফলে হারাতে হয় তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি। কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি নয় অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে তার জীবন থমকে যায়নি। অন্ধ দুই চোখে তিনি কর্মমুখর। জীবন ও জীবিকা চালান আপন কর্মে। জীবন যুদ্ধে পরাস্ত হননি। কারো অনুদান কিংবা সাহায্যেরও প্রয়োজনও হয়নি তার।
কিন্তু এখন সেই আগের মতন আয় রোজগার নেই। দৈনিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করলেও কোনো কোনো দিন খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। চোখের জন্য বছরে দুইবার ইনজেকশন নিতে হয়। যার খরচ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।

এদিকে ছেলে তুহিন ও স্ত্রী সালমা বেগমের একটি করে কিডনি নষ্ট। তাদের জন্য করতে হয় ব্যয়বহুল চিকিৎসা। দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে হোসেন আলীর পরিবার। সরকার থেকে প্রতি তিন মাস পর পর দুই হাজার ৫০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও তা দিয়ে সংসার চলে না তার। অন্ধ মোটর মেকানিক হোসেন আলীর জীবনের গল্পটা এমনই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মাসুদ রানা বলেন, অন্ধ হয়েও হোসেন আলী নির্ভরযোগ্য এক মোটরসাইকেল মেকানিক হিসেবে পরিচিত। ক্লাচ প্লেট, ক্লাচ ডিস্ক, হেডলাইট, ইঞ্জিনের পিস্টন, টাইমিং চেনসহ মোটর সাইকেলের যাবতীয় কাজ নির্ভুলভাবে করে ফেলতে পারেন। মানুষ বিশ্বাস করে তার কাছ থেকে মোটরসাইকেল মেরামত করান। কারণ হোসেন আলী সুচারুভাবে মেরামত করেন।

হোসেন আলীর কাছে মোটরসাইকেল মেরামত করতে আসা আবিদ হাসান বলেন, আমি অনেক দিন থেকেই তাকে দেখছি। তার কাছে মোটরসাইকেলের কাজ করতে আসি। তার কাজ দেখে বোঝা যায় না তিনি অন্ধ মানুষ। তিনি অন্ধ হলেও নিখুঁতভাবে গাড়ির ত্রুটি মেরামতের কাজ করেন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলম বলেন, অন্ধ হোসেন আলী দীর্ঘদিন ধরে খুবই দক্ষতার সঙ্গে মোটরসাইকেল মেরামত করে যাচ্ছেন। অসুস্থতার কারণে তিনি তার দৃষ্টি শক্তি হারান। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় নিয়ে এসেছি। তিনি নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এছাড়া ভবিষ্যতে যদি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা আসে আমরা অবশ্যই তাকে সহায়তা করবো।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর